আমাদের সম্পর্কে
দারুস সুন্নাহ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা
দারুস সুন্নাহ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসা একটি সুপ্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা এবং এতিমখানা, যেখানে কুরআনের সঠিক জ্ঞান ও শিক্ষার প্রসারে নিবেদিতভাবে কাজ করা হয়। আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক শিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দারুস সুন্নাহতে শিক্ষার্থীদের কুরআনের গভীর জ্ঞান, শুদ্ধ তেলাওয়াত, এবং কুরআনের হিফজ বা মুখস্থ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ ও পরিবেশ প্রদান করা হয়।
আমাদের বিভাগসমূহ
- নূরানী বিভাগ: ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য কুরআনের প্রাথমিক শিক্ষা যেখানে শুদ্ধ উচ্চারণ ও তাজবীদ শেখানো হয়।
- নাজেরা বিভাগ: কুরআন তেলাওয়াত ও তাজবীদ শেখার জন্য, যাতে শিক্ষার্থীরা সহজেই কুরআন পাঠে দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
- হিফজ বিভাগ: যারা কুরআন মুখস্থ করতে আগ্রহী তাদের জন্য একটি বিশেষ বিভাগ, যেখানে দক্ষ শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে পূর্ণ কুরআন হিফজ করানো হয়।
- বয়স্ক কোরআন শিক্ষা বিভাগ: বয়স্কদের জন্য একটি পৃথক বিভাগ, যেখানে কুরআন শিক্ষার সুযোগ প্রদান করা হয় যাতে তারা ইসলামের শিক্ষার সাথে পরিচিত হতে পারে।
আমরা বিশ্বাস করি যে প্রতিটি শিশুর মধ্যে আছে ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা, এবং তাদের জন্য কুরআন শিক্ষার মাধ্যমে সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। দারুস সুন্নাহ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসা সকল বয়সের মানুষকে কুরআনের শিক্ষায় আলোকিত করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত।
আমাদের উদ্দেশ্য
আজকের যারা শিশু তারাই পরিবার, সমাজ ও জাতির ভবিষ্যৎ। প্রতিটি শিশুর অন্তরে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অন্তর্নিহিত। শিশুদের জন্য তাই উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা একান্ত প্রয়োজন। যাতে করে এরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ এবং সমাজের উপকারে আসতে পারে। তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ তৈরী।
একজন শিক্ষকই পারেন শিশুদেরকে তথা দেশ ও জাতিকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে। আর তার জন্য শিক্ষকদেও সঠিকভাবে শিক্ষকতার যোগ্যরূপে গড়ে তোলা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্য কে সামনে রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। সামাজিক জীবনে নৈতিক চরিত্রই প্রধান বিষয়, যা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। যে সমাজের লোকজন নৈতিক চরিত্রহীন হয়ে যায় তারা পশু সমতুল্য। হক-হালাল, সত্য-মিথ্যা, ভাল-মন্দ, জায়েজ-নাজায়েজ ইত্যাদি ব্যপার গুলো মেনে চলা এবং তার প্রতিফলন ঘটানো সমাজের প্রতিটি লোকের অপরিহার্য্য বিষয়। আর এ সকল বিষয়ে তখনি শ্রদ্ধাবোধ আসে যখন নৈতিক চরিত্র নীতি বোধ থাকে। আর নৈতিক চরিত্র সুন্দর করনে মাদরাসা শিক্ষার বিকল্প নেই।
কারন এ শিক্ষা দ্বারা মানুষ কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান লাভ করে এবং এতে তার আত্মিক ও চারিত্রিক পরিশুদ্ধি সাধন হয়। রাসূল (সা) এ প্রসঙ্গে বলেছেন-
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ عَنْ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ لَمْ يَكُنْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا وَكَانَ يَقُولُ إِنَّ مِنْ خِيَارِكُمْ أَحْسَنَكُمْ أَخْلَاقًا(البخارى ১১-৩৯৪)
অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট সে যার চরিত্র তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।
আমাদের মূল্যবোধ
সবার জন্য শিক্ষা কর্মসূচী বাস্তবায়নের লক্ষে সরকার পরিচালিত কার্যক্রমে সহযোগিতা প্রদান করা এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রদান করা।
১। স্বাস্থ্য, পুষ্টি স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানি পান ও ব্যবহার ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিচর্যা সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনে মসজিদ এলাকার নারী পুরুষদের মধ্যে উদ্বুদ্ধমূলক সভা সমাবেশ করা।
২। সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক তাফসির মাহফিল, দরসে হাদিস ও ইসলামী বিষয় ভিত্তিক আলোচনার ব্যবস্থা করা।
৩। জুমুয়ার খুতবায় সমসাময়িক আথ-সামাজিক, নৈতিক ও দ্বীনি বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমাধান প্রদান করা।
৪। মসজিদ কেন্দ্রীক ইসলামী পাঠাগার স্থাপন করা।
খ) প্রশিক্ষণ :
বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর মধ্যে “ইমাম প্রশিক্ষণ” বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মসজিদের ইমাম সাহেবদের সঠিকভাবে ইমামতির যোগ্যরূপে গড়ে তোলার পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক সকল কর্মকান্ডে ইমামগণ যাতে ভূমিকা রাখতে পারে সে সকল বিষয়ে ইমামদেরকে সচেতন করে তোলাই ইমাম প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য যে ইমাম প্রশিক্ষণের জন্য ইমামদের যাতায়াত, থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা, বিভিন্ন ধরণের পুরস্কার, খাতা, কলম, সার্টিফিকেট ইত্যাদি সকল জিনিসসহ যাবতীয় ব্যয়ে মসজিদ মিশন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার সহায়তায় ব্যবস্থা করে। মিশনের কেন্দীয় দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি সরকারের মন্ত্রী, এম. পি, স্থানীয় মেয়র, এস.পি-ডি.সি সহ বিভিন্ন স্তরের সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তাগণ এ সমন্ত প্রশিক্ষণ বিষয়ভিত্তিক আলোচনা রাখেন।
১. কেন্দ্রীয়ভাবে এবং জেলা, থানা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক ইমাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, যাতে ইমামগণ শুধু মসজিদেরই নন বরং সমাজেরও ইমাম হিসেবে নিজেদের যোগ্যরূপে গড়ে তুলতে পারেন।
২. মাসয়ালা মাসায়েল শিক্ষা, সাময়িক পাঠ, সহীহ কুরআন শিক্ষা, দায়িত্বশীল ও মুয়াল্লিম প্রশিক্ষণসহ হিফ্জ, কেরাত হামদ ও না’ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা।
৩. মসজিদ কেন্দ্রীক সংগঠিত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র বিমোচন ইত্যাদি কর্মসূচীর সাথে সংশ্লিষ্ট সদস্য-সদস্যাদের ইসলামী ও সামাজিক বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।